বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় সেলিম মাহমুদ
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় সেলিম মাহমুদ

আবুল খায়ের,ডিআইইউ প্রতিবিধি :   বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে ঘিরে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন সংগঠনটির দীর্ঘদিনের কর্মী সেলিম মাহমুদ। সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার দাবি করেছেন তাঁর সহযোদ্ধারা। সহযোদ্ধাদের ভাষ্য, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা, তাঁর মুক্তির দাবিতে আন্দোলন, হরতালসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সেলিম মাহমুদ সক্রিয় ছিলেন। দলের দুঃসময়ে কর্মীদের পাশে থাকা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সময়, শ্রম ও মেধা দেওয়ার বিষয়টিও তাঁরা উল্লেখ করেন। তাঁদের দাবি, ২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক আন্দোলনের সময়ও তিনি রাজপথের কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। ওই সময়ে হামলায় আহত হয়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় অচেতন ছিলেন বলেও তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানান। এ ছাড়া ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবরের হরতাল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পল্লবী থানায় হওয়া একটি মামলায় সেলিম মাহমুদকে ১৬ নম্বর আসামি করা হয়েছিল বলে তাঁর সহযোদ্ধারা জানান। মামলা ও হামলার মতো প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে গেছেন বলে তাঁদের দাবি। জুলাইয়ের গণআন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও সেলিম মাহমুদের সক্রিয়তার কথা তুলে ধরেছেন তাঁর অনুসারীরা। তাঁদের ভাষ্য, ১৬ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক পরিস্থিতির পর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক ও সমন্বয়ের কর্মকাণ্ডে তাঁকে দেখা যায়। পরদিন ১৭ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে রামপুরা এলাকায় অবরোধ কর্মসূচিতেও তিনি ভূমিকা রাখেন বলে তাঁরা দাবি করেন। এদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে। সেলিম মাহমুদের অনুসারীদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে সাধারণ সম্পাদক পদে মূল্যায়ন করা হবে। তাঁদের মতে, নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। তবে নতুন কমিটিতে কারা নেতৃত্বে আসবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক কর্তৃপক্ষের। নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে সেলিম মাহমুদের প্রার্থিতা ও তাঁর রাজনৈতিক-সাংগঠনিক ভূমিকার মূল্যায়নের বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।  

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৯ এ.এম
ডিআইইউতে তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির ঘটনায় দায় স্বীকার করে মুচলেকা; হলের সিট বাতিল
ডিআইইউতে তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির ঘটনায় দায় স্বীকার করে মুচলেকা; হলের সিট বাতিল

রাজধানীর ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি এবং একজনের ওপর আতর্কিত হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটির কাছে নিজেদের দোষ স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা। পরে লিখিত মুচলেকা দিয়ে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার অঙ্গীকার করেন তারা। একই সঙ্গে তদন্ত কমিটির উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চান অভিযুক্তরা৷  সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকল হলের প্রভোস্ট, তদন্ত কমিটির প্রধান, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেন এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতি সভাপতি মো: আবুল খায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন৷  তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাহিন অর রশিদ প্লাবন এবং তার ভাই প্রত্যয়ের তাৎক্ষনিকভাবে হলের সিটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে৷  বাকি অভিযুক্তদেরও হলের সিট বাতিলের জন্য বোর্ড অব ট্রাস্টিজ বরাবর সুপারিশ করেছে কমিটি৷  জানা গেছে, তদন্ত কমিটির সামনে অভিযুক্তরা ঘটনার জন্য অনুতপ্ত হওয়ার কথা জানান। পরে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল খায়েরসহ ক্যাম্পাসের অনান্য সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চান তারা। ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা, হুমকি বা হয়রানি করবেন না বলেও মুচলেকা দেন। পরবর্তীতে ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্টাম্পেও মুচলেকা দেওয়ার শর্ত রয়েছে৷  বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত। তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  এর আগে মাদকসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে ডিআইইউর তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি এবং এক সাংবাদিককে আতর্কিত হামলার  অভিযোগ অভিযোগ ওঠে। পরে ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা বাড্ডা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির নম্বর ৬৮৯। একইসাথে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলার আবেদন করা হয়৷  এদিকে ঘটনার পর মাহিন অর রশিদ প্লাবনকে শোকজ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।  এ ঘটনায় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো: আবুল খায়ের বলেন, ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং হুমকি দিয়ে আসছে৷ আমরা আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবেলা করেছি৷ ক্যাম্পাসে শান্তি- শৃঙ্খলায় সাংবাদিকরা সবসময় তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন৷ বিশ্ববিদ্যায়লের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মহোদয়কে অনুরোধ করবো যারাই এই অস্থিতিশীলতা তৈরী করতে চায় তাদের প্রশ্রয় না দিয়ে বিষয়টির যথাযথ সুরাহা করা৷  সাংবাদিক সমিতির এই সভাপতি বলেন, এই ঘটনাটি আমাদের প্রভোস্ট ও ডীন মহোদয়কে দায়িত্ব না দিলে সুরাহা হবার সম্ভাবনা ছিলনা৷ তদন্ত কমিটিতে তার দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং তার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধ থেকেই এই সমঝোতায় হয়েছে৷  তিনি বলেন, প্রথম দিকে এই বিচার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ সময় ক্ষেপন করেছেন৷  তার প্রশাসনিক অদক্ষতায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরেও আমাদের এক সদস্যের ওপর হামলা হয়৷ প্রশাসনিক এই অদক্ষতায় তার পদত্যাগ করা উচিত৷ অবাক করা বিষয় হচ্ছে এই সুরাহা এবং মুচলেকার পরেও তারা একটি রিক্সায় অজ্ঞাত কয়েকজন হুমকি দিয়ে গিয়েছে৷ আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি৷ যে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য অভিযুক্তদের শক্ত জবাব দেওয়া হবে৷ তবে শান্তিপূর্ণ সহবস্থানে আমরা  সবসময় তাদের পাশে আছি৷

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৯ এ.এম
শিক্ষা বাজেটের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ: মেধা বাঁচানোর শেষ সুযোগ
শিক্ষা বাজেটের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ: মেধা বাঁচানোর শেষ সুযোগ

মবিনুল ইসলাম রাশা,গবি: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাণবস্তু ঠিক কোথায় বাস করে? বহুতল ভবনের চকচকে ইটে, দৃষ্টিনন্দন মূল ফটকে, নাকি নতুন জ্ঞান তৈরির ল্যাবে? প্রতি বছর যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা জাতীয় পর্যায়ের বাজেট চূড়ান্ত হয়, তখন এই প্রশ্নটি ঘুরপাক খায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দৃশ্যমান অবকাঠামোর প্রতি আমাদের যে প্রবল মোহ, গবেষণায় বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের  ততটা মোহ নেই। একটা বিশ্ববিদ্যালয় শেষ পর্যন্ত দৃষ্টিনন্দন নান্দনিক সব ভবনের কংক্রিট জঙ্গল হিসেবে পরিচিতি পাবে, নাকি মুক্ত চিন্তার, নতুন নতুন গবেষণার কারখানা হবে—তা নির্ভর করে তার বাজেট বরাদ্দের সুচিন্তার ওপর। আমাদের দেশে বাজেট বরাদ্দ মানেই যেন 'কনক্রিট আর রডের হিসাব'। নতুন একটি পাঁচতলা বা দশতলা হল নির্মাণ, প্রশাসনিক ভবনের আধুনিকায়ন কিংবা ক্যাম্পাসের বাহ্যিক সৌন্দর্যায়ন—এগুলো বাজেট বক্তৃতায় বা বার্ষিক প্রতিবেদনে খুব দ্রুত দৃশ্যমান করা যায়। এতে উদ্বোধনের ফিতা কাটা যায়, দৃশ্যমান উন্নয়নের ক্রেডিট নেওয়া যায়। কিন্তু কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ল্যাবে ৩ বছর ধরে চলা ক্যান্সার গবেষণার অগ্রগতি কিংবা একটি নতুন কোনো তত্ত্বকে চাইলেই ফিতা কেটে উদযাপন করা যায় না। আর এই ক্রেডিটের কিংবা ছবির রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক ফাদেই বন্দি হয়ে আছে আমাদের শিক্ষা বাজেট। অথচ সাধারন অর্থনীতির চোখ দিয়ে দেখলেও বুঝতে কষ্ট হয় না যে, এটি চূড়ান্ত অদূরদর্শীতার এক উদাহরণ।  একটি ভবন তৈরি হলে তার পেছনে প্রতি বছর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাড়ে, কিন্তু তা থেকে নতুন কোনো আর্থিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্য পাওয় যায় না। অন্যদিকে, গবেষণায় বরাদ্দ দেওয়া প্রতিটি টাকা কাজ করে চক্রবৃদ্ধি সুদের মতো। গবেষণা থেকে নতুন প্রযুক্তি তৈরি হয়, নীতি-নির্ধারণের পথ খোলে, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি বা পেটেন্ট তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে পুরো দেশের অর্থনীতিকে বদলে দিতে পারে। ইউনেস্কোর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, একটি দেশের জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশ কিংবা জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া উচিত। অথচ আমাদের শিক্ষা বাজেট দুই শতাংশের আশেপাশের কোটাতে আটকে থাকে। আরও বড় ট্র্যাজেডি হলো, এই সামান্য বরাদ্দের সিংহভাগ আবার চলে যায় বেতন-ভাতা আর ইট-পাথরের নতুন ভবন নির্মাণ,  অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণে। দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক বাজেটের দিকে তাকালে দেখা যায়, গবেষণার ভাগ্যে জোটে মোট বরাদ্দের মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে যখন মানসম্পন্ন রিএজেন্ট কেনা বা আধুনিক যন্ত্রপাতি আনার টাকা থাকে না, অথচ পাশের মাঠেই কোটি টাকা খরচ করে নতুন বহুতল ভবনের পাইলিং চলে—তখন বুঝতে বাকি থাকে না, আমাদের উচ্চশিক্ষার মূল লক্ষ্য হারিয়ে গেছে। আমরা প্রায়ই 'মেধা পাচার' বা ব্রেইন ড্রেন নিয়ে আক্ষেপ করি। কিন্তু একজন তরুণ গবেষক যখন দেখেন তার মেধা প্রমাণের কোনো সুযোগ দেশে নেই, বিশ্বমানের তো দূর—মৌলিক গবেষণার জন্যই তাকে ফান্ড পেতে চাটুকারিতা করতে হচ্ছে, তখন তার সামনে দেশ ছাড়ার আর কোনো বিকল্প থাকে না। কোটি কোটি টাকা খরচ করে দালানকোঠা বানানোর পর যদি ভেতরের মেধাগুলোই হারিয়ে যায়, তবে সেই খালি ভবনগুলো আসলে কিসের প্রতীক? তা কেবল জ্ঞানহীন এক-একটি খোলস বৈ কিছু নয়। উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে তাকালে এই অগ্রাধিকারের পার্থক্যটা আরও স্পষ্ট হয়। তাদের কাছে অবকাঠামো মানে শত শত বহুতল ভবন নয়; তাদের অবকাঠামো হলো উচ্চগতির ডিজিটাল ডেটাবেজ এক্সেস, আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব, বিশ্বের নামকরা গবেষকদের নিয়ে আসার ফেলোশিপ ফান্ড এবং নিরবচ্ছিন্ন গবেষণার পরিবেশ। তারা গবেষণা দিয়ে বিশ্ব র‍্যাংকিং পার করে, আর আমরা ভবনের সংখ্যা গুনে মনের আনন্দ খুঁজি। অবশ্য অবকাঠামোর প্রয়োজনকে আমি একদম উড়িয়ে দিচ্ছি না। একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কার্যকর ক্লাসরুম, ল্যাব এবং শিক্ষার্থীদের বাসস্থানের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা বোকামি। কিন্তু অবকাঠামো হওয়া উচিত গবেষণার ‘সহায়ক মাধ্যম’, মূল লক্ষ্য নয়। আমাদের এখন দরকার 'রিসার্চ-ফার্স্ট' অবকাঠামো নীতি। আগে দেখতে হবে ল্যাবে কী সরঞ্জাম দরকার, বিজ্ঞানীদের কাজের পরিবেশ আছে কি না; তারপর ঠিক হবে সেই ল্যাব রাখার জন্য ভবনের প্রয়োজন কতটুকু। যে দেশ তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাজেটে গবেষণার চেয়ে ঠিকাদারি উন্নয়নকে বেশি প্রাধান্য দেয়, সেই দেশ বিশ্বমঞ্চে সস্তা শ্রমের যোগানদার হতে পারে, কিন্তু কখনো জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারে না। ভবনের স্থায়িত্ব শত বছর হতে পারে, কিন্তু সেই ভবনের ভেতরে যদি নতুন জ্ঞান তৈরি না হয়, তবে ইতিহাস তাকে কেবল 'ইটের স্তূপ' হিসেবেই মনে রাখবে। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে—আমরা কি ইট-পাথরের মিস্ত্রি হব, নাকি আগামী দিনের উদ্ভাবক তৈরি করব?  

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
ডিআইইউতে সাংবাদিকের ওপর হামলা: ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা আবেদন
ডিআইইউতে সাংবাদিকের ওপর হামলা: ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা আবেদন

ডিআইইউ প্রতিনিধি:  ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির পর এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় এমবি প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে৷  বিজ্ঞ জেলা নির্বাহী আলাদতে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে৷  শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মামলার বাদী সাংবাদিক কালাম মুহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন৷ এর আগে তার ওপর হামলার ঘটনায় বাড্ডা থানায় এসব আসামীদের বিবাদী করে সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করা হয়৷  জানা গেছে, মামলার এজাহার অনুযায়ী, মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে এমবিএ প্রোগ্রামের মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবনকে। এছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—একই হলের বাধন, মুরাদ পাটোয়ারী, জোবায়ের পাটোয়ারী, প্রত্যয় ও মিনহাজকে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামী করা হয়েছে৷ এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করে বাড্ডা থানায় জমা দেওয়া হয়েছে৷  এদিকে এসব আসামীর বিরুদ্ধে লিখিত এবং ভিডিও জবানবন্দি দিয়েছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী৷ তারা জানিয়েছেন সেদিন মুরাদ এবং জোবায়ের পাটোয়ারীর ইন্ধনেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে৷  এদিকে, তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির অভিযোগে মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবনকে শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর আত্মীয় পরিচয়ে একাধিক সাধারণ শিক্ষার্থীকে হুমকি দিয়েছেন প্লাবন। তবে তার সঙ্গে আত্মীয়তার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান। এ ছাড়া প্লাবন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘গ্যাং থার্টি সিক্স’ নামে একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করেন এবং ওই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ রয়েছে৷  এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কালাম মুহাম্মদ বলেন, লিখিত অভিযোগ দেওয়া এবং নিরাপত্তার আবেদন করার পরেও প্রক্টর আব্দুল কালাম আজাদ সাহেব আমার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন৷ তার অদক্ষতা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণেই ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এর নাম ভাঙ্গিয়ে হলে এই বিবাদীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নানা সময়ে অত্যাচার করে আসছেন৷  তিনি বলেন, আমরা ইনসাফ চাই৷ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তথা প্রক্টরের এই অদক্ষতায়ই আজকের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ পুরো বিষয়টি আমি আইনগতভাবে মোকাবেলা করবো৷ 

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
সাংবাদিক হত্যার হুমকির অভিযোগে ছাত্রদল, ছাত্র আন্দোলন ও বৈছাআ'র নিন্দা
সাংবাদিক হত্যার হুমকির অভিযোগে ছাত্রদল, ছাত্র আন্দোলন ও বৈছাআ'র নিন্দা

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তিনজন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির ঘটনায় এমবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী মাহিন অর রশিদ প্লাবন ও তার গ্যাং 'গ্রুপ থার্টি সিক্স' এর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাএদল-ডিআইইউ শাখা, ইসলামি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ- প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি উইং ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-ডিআইইউ শাখা।  শুক্রবার(১১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-ডিআইইউ শাখা, ইসলাম ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ- প্রাইভেট ইউভার্সিটি উইং এবং বৈষম্যবিরোধী ছাএ আন্দোলন-ডিআইইউ শাখা তিনটি পৃথক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।  বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন হলে মাদক বিস্তারের নিউজ করায় সাংবাদিক কে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।  বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা হত্যার হুমকি কোনোভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। আমরা অবিলম্বে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ বিচার ব্যাবস্থা গ্রহনের দাবি জানাচ্ছি।  দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে আরও অভিযোগ রয়েছে, প্লাবন কিছু বিপথগামী শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘গ্যাং থার্টি সিক্স’ নামে একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে আসছেন দীর্ঘিদিন। ওই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর র‌্যাগিংসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এই গ্যাংয়ে তিন নং হল ছাড়াও বিভিন্ন হলের ৩৬ জন সদস্য রয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র৷

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৬ এ.এম
1
‘পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে’
2
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ
3
শিমুল সিন্ডিকেটে বন্দী ইইডি
4
নারী প্রতিনিধিত্ব ও যৌথ গ্রন্থ রচনা নিয়ে ডিআইইউতে গোলটেবিল আলোচনা
5
ডিআইইউ মাতাতে আসছেন ‘বখতিয়ার–দ্য আর্টম্যান’
6
মহালছড়িতে ইউএনও শিবু দাশের নেতৃত্বে গুচ্ছগ্রামের ৩১ বস্তা সরকারি গম জব্দ
7
দেশের ক্লিনিক্যাল গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন
8
সরকারি চাকরিবিধি উপেক্ষা করে বিএনপির কমিটিতে সরকারি শিক্ষক, বিতর্ক তুঙ্গে
9
হৃদরোগে ডিআইইউ শিক্ষার্থী ফাহিমের মৃত্যু
10
মৎস্য খাতে বাজেটের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান
11
অক্ষর পেরিয়ে জীবন: মায়ের কাছে প্রথম পাঠ
12
বাংলাদেশ থেকে দক্ষ মৎস্য জনবল নিতে আগ্রহী ওমান
13
উপসচিব আশরাফুল আফসারের মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল
14
আসছে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ, মালয়েশিয়া-মালদ্বীপের নজর কক্সবাজারে
15
সরকারি সংস্থার উদাসীনতায় কেরানীগঞ্জে কৃষিজমিতে অবৈধ আবাসন প্রকল্প
16
সাধারণ সেবাগ্রহীতার বেশে ভূমি অফিসে ডিসি ফরিদা
17
সকল পূজামণ্ডপে কঠোর নজরদারির নির্দেশ ঢাকার এসপি শামীমার
18
ব্যাচম্যাটের মৃত্যুতে আবেগঘন পোস্ট ডিসি ফরিদা খানমের
19
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উদযাপন
20
এক পা হারানো অসহায় নার্গিসের পাশে ডিসি ফরিদা