ফুটবল ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ মৌসুমের শুরুতেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো গড়লেন আরেকটি বিশ্ব রেকর্ড। ২০০২-০৩ মৌসুম থেকে শুরু করে প্রতিটি লিগ মৌসুমে গোল করার ধারা বজায় রাখলেন তিনি। শুক্রবার আল নাসরের হয়ে আল রিয়াদের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানের জয়ে গোল করে একটি রেকর্ডে নাম লিখলেন সিআরসেভেন। প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ২৫টি লিগ মৌসুমে গোল করার কীর্তি গড়লেন। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা চলতি সৌদি প্রো লিগের মৌসুমে আল নাসরের দ্বিতীয় ম্যাচে শুরুতে বেঞ্চে ছিলেন। তবে মাঠে নামার পর ২০২৬-২৭ মৌসুমের খাতা খুলতে তার মাত্র ২১ মিনিট সময় লাগে। ম্যাচের ৬২তম মিনিটে আবদুল্লাহ আল হামদানের বদলি হিসেবে নেমে ৮৩তম মিনিটে দলের চতুর্থ গোলটি করেন রোনালদো। আইমান ইয়াহিয়ার বাড়ানো বল বক্সের মাঝখান থেকে বাঁ পায়ের ফিনিশিংয়ে জালে পাঠান রোনালদো। টানা ২৫ মৌসুমে গোল করার এই রেকর্ডে তিনি টপকে গেছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচকে, যিনি ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০২২-২৩ মৌসুমের মধ্যে টানা ২৪টি মৌসুমে গোল করেছিলেন। চারটি ভিন্ন দেশে পাঁচটি আলাদা ক্লাবে খেলে রোনালদো গোলের ধারা বজায় রেখেছেন। স্পোর্টিংয়ের হয়ে শুরু করার পর তিনি তার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রথম মেয়াদের প্রতিটি মৌসুমে, রিয়াল মাদ্রিদে নয়টি মৌসুমে এবং জুভেন্টাসে তিনটি মৌসুমে গোল করেন। এরপর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফিরে আসার পর ২০২২-২৩ মৌসুমের মাঝামাঝিতে তিনি সৌদি আরবে যোগ দেন এবং আল নাসরের হয়ে গোল করার ধারা অব্যাহত রাখেন। এটি রোনালদোর অফিশিয়াল সিনিয়র ক্যারিয়ারের ৯৭৭তম গোল। ফলে ১,০০০ গোলের মাইলফলক ছুঁতে তার প্রয়োজন আর মাত্র ২৩টি গোল। রোনালদোর বর্তমান মোট গোলের মধ্যে রয়েছে রিয়ালের হয়ে ৪৫০টি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে দুই মেয়াদে ১৪৫টি, জুভেন্টাসের হয়ে ১০১টি, স্পোর্টিংয়ের হয়ে ৫টি এবং আল নাসরের হয়ে ১৩০টি গোলের পাশাপাশি পর্তুগালের হয়ে ১৪৬টি গোল। পেশাদার ফুটবলার হিসেবে ২০২৬-২৭ মৌসুমটিই তার শেষ মৌসুম হতে পারে। রোনালদোর এমন ইঙ্গিতের পর চার অঙ্কের এই সংখ্যার দিকে দৌড়টি আরও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছে। চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত ভোগ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেছিলেন, ‘সম্ভবত এটিই ফুটবলে আমার শেষ বছর এবং আমি একটি দুর্দান্ত কীর্তি রেখে যেতে চাই।’ এই মন্তব্য করার সময় রোনালদোর ক্যারিয়ার গোল সংখ্যা ছিল ৯৭৬টি। নতুন লিগ মৌসুমের প্রথম উপস্থিতিতেই তিনি সেই সংখ্যা এক বাড়িয়ে নিয়েছেন। চলতি মৌসুম পর্যন্ত আল নাসরের সঙ্গে রোনালদোর চুক্তি রয়েছে এবং ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসেও তিনি ১,০০০ গোলের এই ঐতিহাসিক লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছেন। এমবি
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ব্যর্থতাকে সরিয়ে দিয়ে ডারউইনে তারা ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় পায়। সেই সাফল্যে উজ্জীবিত বাংলাদেশ ম্যাকাই টেস্টে হতাশ করল। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন ৬৪ রানে অলআউট হয়েছে তারা। সফরকারীদের গুটিয়ে দিতে ৩৪ ওভার লেগেছে অস্ট্রেলিয়ার। ডারউইনে বাংলাদেশ অবিশ্বাস্য জয়ের পর ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্যে ম্যাকাই টেস্টে নেমেছিল। কিন্তু স্টার্ক তার প্রথম ২২ বলে ৫ উইকেট নিয়ে সফরকারীদের ব্যাটিং লাইন তছনছ করে দেন। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপাকে সফরকারীরা। ৬.৪ ওভারে ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। স্টার্ক এই সময়ে ৪ ওভার চার ওভারে ৩ মেডেনসহ মাত্র চার রান দিয়ে ফাইফার পান। এর আগে জ্যামাইকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৫ বলে ফাইফারের দেখা পান তিনি। প্রথম বলে সাদমান ইসলামকে ক্যামেরন গ্রিনের শিকার বানান অজি পেসার। পরের ওভারে টানা দুই বলে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে ফেরান স্টার্ক। প্রথম তিন ব্যাটারই মারেন ডাক। মুমিনুল হককেও ফেরান তিনি মাত্র ৯ রানে। ৫ বল খেলে লিটন দাস ডাক মারেন। টেস্টে সর্বনিম্ন ২৬ রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড ভাঙার শঙ্কা আপাতত কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। তবে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৪৩ রানে অলআউট হওয়া এড়াতে এখনও কিছুটা পথ বাকি। যদিও মুশফিকুর রহিম ৪২ বলে ৫ রান করে ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে আউট হয়েছেন। ২১ রানে ৬ উইকেট পড়েছে বাংলাদেশের। তারপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের ১৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে প্রথম সেশন শেষ করে তারা। মিরাজ ১১ ও হাসান ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। টেস্টে সর্বনিম্ন রানে অলআউট (২৬) হওয়ার লজ্জা এড়াতে পারলেও হতাশা নিয়ে লাঞ্চে যায় বাংলাদেশ। ২৩ ওভারে ৬ উইকেটে ছিল ৩৫ রান। দ্বিতীয় সেশনে কামিন্স প্রথমবার বল হাতে নিয়ে এই জুটি ভেঙে দেন। তৃতীয় স্লিপে ইনিংস ১১ রানে বেউ ওয়েবস্টারের ক্যাচ হন মিরাজ। হাসানের সঙ্গে তার ১৫ রানের জুটি ভেঙে যায়। পরের ওভারে জশ হ্যাজেলউডের শিকার হাসান। ১০ রানে নাথান লায়নের ক্যাচ হন তিনি। তাসকিন আহমেদকে কামিন্স নিজের তৃতীয় শিকার বানান। ম্যাথু রেনশর ক্যাচ হয়ে ১ রানে থামেনি বাংলাদেশি ব্যাটার। ৩৯ রানে নবম উইকেট হারিয়ে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশ সর্বনিম্ন রানে (৪৩) অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল। কিন্তু তাইজুল ইসলাম ৩০তম ওভারের শেষ বলে হ্যাজেলউডকে চার মেরে সেই লজ্জা এড়ান। এদিকে শরিফুল ১১ নম্বরে নেমে ইনিংস সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন। তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ৩৫ বলে সর্বোচ্চ ২৫ রানের জুটি গড়েন। তাকে ফিরিয়ে স্টার্ক বাংলাদেশকে অলআউট করেন। তাইজুল ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন। ১০ ওভারে ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন স্টার্ক। বাংলাদেশ একাদশ সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়া একাদশ ট্যাভিস হেড, ম্যাট রেনশ, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটরক্ষক), বেউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন, জশ হ্যাজেলউড।