ভূমিসেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যেন হয়রানি, অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা দালালের দৌরাত্ম্যের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। জনগণের ভোগান্তি কমিয়ে স্বচ্ছ, সহজ ও দ্রুত ভূমিসেবা নিশ্চিত করাকে জেলা প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক। ফরিদা খানম বলেন, একজন নাগরিক ভূমি অফিসে কোনো ব্যক্তির কাছে নয়, রাষ্ট্রের কাছে সেবা নিতে আসেন। তাই তাঁকে যথাযথ সেবা দেওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও নৈতিক দায়বদ্ধতা। ভূমিসেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি, অনিয়ম বা হয়রানি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হয়ে দ্রুত সেবা কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নামজারি, খতিয়ান, মিউটেশনসহ ভূমিসংক্রান্ত সেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ঘুষ, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ফাইল আটকে রাখা, অযথা হয়রানি কিংবা দালালের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, নাগরিকদের সরাসরি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সেবা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সরকারি ফি এবং সেবা প্রদানের সময়সীমা সম্পর্কে নাগরিকদের স্পষ্ট তথ্য দিতে হবে। নাগরিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণের ওপরও গুরুত্ব দেন ফরিদা খানম। তিনি বলেন, একজন সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর জমি হয়তো জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই কোনো নাগরিক যেন ভূমি অফিস থেকে অপমানিত বা হয়রানির শিকার হয়ে ফিরে না যান। ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে সাফল্য সভায় জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঢাকা জেলায় সাধারণ খাতে ভূমি উন্নয়ন করের দাবি ছিল ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ৭২ হাজার ২৮০ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৩ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৬ টাকা, যা দাবির ১১০ দশমিক ৬ শতাংশ। এ ছাড়া সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ২৬ কোটি ১১ লাখ ১১ হাজার ১৬০ টাকা এবং অর্পিত সম্পত্তির লিজমানি বাবদ ৮ কোটি ৭৬ লাখ ৮৬ হাজার ১২৫ টাকা আদায় হয়েছে। রাজস্ব আদায়ে এ সাফল্যের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি), তহসিলদার ও সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, এ অর্জন তাঁদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন। ফরিদা খানম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু ফাইল নিষ্পত্তি করা নয়, মানুষের সমস্যার সমাধান করা।’ জনগণ যেন দালাল ছাড়াই স্বচ্ছ ও সহজ প্রক্রিয়ায় ভূমিসেবা পান এবং কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সন্তুষ্টচিত্তে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেটিই নিশ্চিত করতে হবে। সভায় ভূমি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়, ভূমিসেবা সহজীকরণ এবং নাগরিক ভোগান্তি কমানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
তামাক ও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। তিনি বলেন, শুধু আইন থাকলেই তামাকমুক্ত নগর নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আইনের যথাযথ প্রয়োগ, নিয়মিত তদারকি, জনসচেতনতা এবং প্রমাণভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে হবে। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আর্ক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘তামাক-ধূমপানমুক্ত নগর’ শীর্ষক ৪৮ মাসের প্রকল্পের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের অংশীদার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ফরিদা খানম বলেন, বিদ্যমান আইন থাকা সত্ত্বেও নগরীর বিভিন্ন গণপরিসরে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। এর সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, নারী ও প্রবীণরা। ধূমপান না করেও অন্যের ধোঁয়ার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই গণপরিসরে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে আইনের প্রয়োগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, চার ধাপে পরিচালিত কর্মভিত্তিক গবেষণা প্রকল্পটি স্থানীয় পর্যায়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে স্থানীয় টাস্কফোর্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন তামাকমুক্ত নগর গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তামাক নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ঢাকা জেলা প্রশাসন সবসময় আন্তরিক ও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। ধূমপানমুক্ত আইন বাস্তবায়নে গণপরিসরে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও কঠোর তদারকি অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি জেলা ও স্থানীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্সকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের বাস্তবতা ও গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং গবেষণা দলের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নগরভিত্তিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও প্রয়োজনীয় নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণে জেলা প্রশাসন সহযোগিতা করবে। তিনি আরও বলেন, ‘প্রমাণভিত্তিক তথ্য ও সমন্বিত উদ্যোগই পারে একটি নগরকে টেকসইভাবে পরিবর্তন করতে। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রকল্পের গবেষণালব্ধ ফলাফল ভবিষ্যতে তামাক নিয়ন্ত্রণে নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত রূপরেখা তৈরি করবে।’ অনুষ্ঠানে আর্ক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিবৃন্দ, দেশি-বিদেশি গবেষক ও অংশীদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা, সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান থেকে তামাকের ব্যবহার ও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণপরিসরে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনায় নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার আহ্বানের মধ্য দিয়ে রাজধানীর ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ্ পার্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতা। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও দর্শনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টায় বাহাদুর শাহ্ পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু জাতীয় কবি নন, তিনি চেতনা, সাম্য ও মানবতার কবি। অন্যায়, শোষণ ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে তাঁর লেখনী ছিল প্রতিবাদের শক্তিশালী হাতিয়ার। মন্ত্রী বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন নতুন প্রজন্মকে অসাম্প্রদায়িক, দেশপ্রেমিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে অনুপ্রাণিত করে। তাই নজরুলকে শুধু পাঠ্যবই কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁর আদর্শকে তরুণ প্রজন্মের জীবনচর্চার অংশ করে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, নজরুলের চেতনাকে শুধু সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না; তাঁর সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শ সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে ধারণ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আজ কে বিজয়ী হলো, সেটি বড় কথা নয়। এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা হলো, শিক্ষার্থীরা নজরুলের সাহিত্য, দর্শন ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে এবং তাঁর চেতনাকে নিজেদের মধ্যে ধারণ করার সুযোগ পাচ্ছে।’ ঢাকা জেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সভাপতি হেলাল খান। অনুষ্ঠানে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী পর্ব শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কবিতা আবৃত্তি, নজরুলসংগীত পরিবেশন এবং নজরুলের সাহিত্যভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত এ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার অন্যতম লক্ষ্য হলো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও জীবনদর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাম্য, মানবতা, দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ঘটানোই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দ্রুত বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। এতে রাঙামাটির বাঘাইছড়িসহ হ্রদ তীরবর্তী বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাটের ওপেনিং বাড়িয়ে সর্বশেষ তিন ফুট করা হয়েছে। এরপর বাঘাইছড়ির প্লাবিত নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে কাচালং নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে বাঘাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে। বাঘাইছড়ি পৌরসভার বটতলী, এফ ব্লক, পুরাতন মারিশ্যা, মাস্টারপাড়া, মাদ্রাসাপাড়া, লাইল্যাঘোনা, উলুছড়ি, বাঘাইহাট, পশ্চিম মুসলিম ব্লক ও মধ্যমপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। কোথাও কোথাও সড়ক ও বসতবাড়িতে পানি ওঠায় দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট দিয়ে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। হ্রদের পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় গেটগুলোর ওপেনিং পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে সর্বশেষ তিন ফুট করা হয়েছে। বর্তমানে ১৬টি গেট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান জানান, হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকায় গেটগুলোর ওপেনিং বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ পরিবর্তন করা হতে পারে। গেটগুলোর ওপেনিং তিন ফুট করার পর রোববার দুপুর থেকে বাঘাইছড়ির প্লাবিত নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকা থেকে পানি সরে যাওয়ায় সেখানে পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় রাঙামাটি শহরের পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতুর পাটাতনের বেশির ভাগ অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় সেতুটিতে প্রবেশ ও চলাচল বন্ধ রেখেছে পর্যটন কর্তৃপক্ষ। হ্রদের পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে কাপ্তাই, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে নারী সহকর্মীকে হয়রানি, অনৈতিক প্রস্তাব, ছবি-ভিডিও ধারণ ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে কর্মচারী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটি তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি। অভিযোগকারী হাসপাতালের ইসিজি সহকারী টেকনিশিয়ান ফাতেমা বেগম। গত ২৭ আগস্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে তিনি সাইফুলের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত, নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন। অভিযোগে ফাতেমা দাবি করেন, সাইফুল বিভিন্ন সময়ে তাকে ইসিজি কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া, ইসিজি সহকারী টেকনিশিয়ানের দায়িত্ব কেড়ে নেওয়া এবং সাদা অ্যাপ্রোন খুলে নেওয়ার কথা বলে ভয় দেখিয়েছেন। বাসার ঠিকানা জানতে চেয়ে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতে চাওয়া এবং অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। ফাতেমার দাবি, ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর সাইফুল তার পিছু নিয়ে বাসার সামনেও গিয়েছিলেন। এতে নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি। অভিযোগে আরও বলা হয়, দায়িত্ব পালনের সময় সাইফুল ইসিজি কক্ষে এসে মোবাইল ফোনে তার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতেন। ফাতেমা দায়িত্বের প্রয়োজনে বাইরে গেলে সাইফুল ইসিজি কক্ষে গিয়ে ভিডিও ধারণের পাশাপাশি তিনি কোথায় গেছেন, তা অন্য সহকর্মীদের কাছে জানতে চাইতেন। ফাতেমার অভিযোগ, ইসিজি কক্ষে রোগীর চাপ বেশি থাকলে সাইফুল রোগীদের সামনে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মন্তব্য করতেন এবং কর্তৃপক্ষের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে উৎসাহিত করতেন। একপর্যায়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে, এক রোগী তাকে মারতে এগিয়ে আসেন। পরে তিনি হাসপাতালের পরিচালককে ফোন করলে একজন সুপারভাইজার এসে তাকে সহযোগিতা করেন। সাইফুলের আচরণের কারণ জানতে নিরাপত্তাকর্মী ফারুকের সঙ্গে কথা বলার পর তাকে এক লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন ফাতেমা। তার দাবি, ফারুক তাকে বলেছিলেন, সাইফুলকে এক লাখ টাকা দিলে বিষয়গুলো আগের মতো ঠিক হয়ে যাবে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর গত ২৪ আগস্ট ফারুক তাকে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আগেও সাময়িক বরখাস্ত হাসপাতালের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। ওই আদেশে হাসপাতালের অভ্যন্তরে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ এবং সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া তথ্যের উল্লেখ ছিল। পরে তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয় বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই সময়ও দলীয় প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির এক সদস্য, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের এক প্রভাবশালী শীর্ষ নেতা এবং হাসপাতালের এক পরিচালকের প্রভাব কাজে লাগিয়ে সাইফুল নিয়মিত বিভিন্ন নারী সহকর্মীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। তবে এই অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বরখাস্তের সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়ন হয়নি সাম্প্রতিক অভিযোগের পর হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটি সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. নুরুল হককে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে কার্যনির্বাহী কমিটি সূত্রে জানা গেছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সাইফুলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়নি। কেন কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. নুরুল হকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অভিযোগের বিষয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ক্লিনিং সুপারভাইজার। তিনি অন্য বিভাগে কাজ করেন। ওই নারীর সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। কেউ হয়তো তাকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করিয়েছে।’ চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আজাদ ঢাকা এক্সপোজকে বলেন, ‘একজন নারী কর্মী সাইফুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্তকে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য বৃহস্পতিবার পরিচালককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমি ঢাকায় আছি। অফিসে না থাকায় বিস্তারিত জানি না।’ এদিকে অভিযোগকারী ফাতেমা ইসিজি কক্ষ ও সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তদন্ত চলাকালে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।